• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
বনায়নের আড়ালে লুটপাটের সাম্রাজ্য, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগে বন কর্মকর্তা যাত্রীর ছদ্মবেশে পুলিশের কোটি টাকার ইয়াবা পাচার, রুখে দিলো বিজিবি উখিয়ায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই: পলাতক বাবুল, জড়িত আসিফ-ইমন, এলাকায় চাঞ্চল্য নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে উখিয়ায় বিএনপি কর্মীকে হত্যার উদ্যোশ্যে হামলা – দাবি পরিবারের লাইন নিয়ে চলছে নির্বিচারে পাহাড় কেটে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে খুরুশকুল বিট কর্মকর্তা মোশারাফ কক্সবাজারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী সাংবাদিকতা: জসিম উদ্দিনকে ঘিরে প্রশংসা, সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য পাচার ও মাসিক মাসোহারার বরপুত্র ডেপুটি রেঞ্জার সাদেক রোহিঙ্গা থেকে ‘নাগরিক’! দ্বৈত এনআইডি, হাফেজ হাশেমের গোপন সাম্রাজ্য নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নামছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস টাকার বিনিময়ে মুক্তি, না দিলে চালান: ওসি আজাদের বিরুদ্ধে মিলল সত্যতা

বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড় বন বিভাগ

শফিকুর রহমান - বিশেষ প্রতিবেদক / ১৭৭ বার
সময় : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বন বিভাগে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার সেই অভিযোগ আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে। মাত্র এক বছরের চাকরিজীবনেই ধুমঘাট চেক স্টেশনের মতো লোভনীয় পোস্টিংয়ে স্টেশন সহকারী হিসেবে অর্ডার করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নতুন ফরেস্টার সাদমান সাকিবের বিরুদ্ধে।

বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, এই পদায়নের পেছনে সক্রিয় লবিং করেন ডেপুটি রেঞ্জার ইলিছুর প্রামাণিক ওরফে তিতুমীর। একই সঙ্গে নওশাদ ও ইলিছুর নেতৃত্বে রংপুরকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বন বিভাগে গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই সিন্ডিকেট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তেলবাজি ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে একের পর এক লোভনীয় পোস্টিং নিজেদের দখলে নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, অনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে এই চক্র কার্যত একটি বন মাফিয়া সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। তাদের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে নির্বাচনকালীন সময় বদলি ও নিয়োগ বন্ধ থাকার পরও ব্যতিক্রমী আদেশ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সূত্র আরও দাবি করেছে, ডিএফও শফিককে দিয়ে যোগদান সাপেক্ষে আগেই ধুমঘাট চেক স্টেশনের স্টেশন সহকারীর অগ্রিম অর্ডার করিয়ে রাখা হয়েছে।কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ থেকে আগত ফরেস্টার সোহেল রানার নামে লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

কথিত আছে, ডেপুটি রেঞ্জার ইলিছুর রহমান তিতুমীর এর ধুমঘাট চেক স্টেশনে এক বছরের পোস্টিং থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি ডিএফওকে মাসিক পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে অতিরিক্ত সাত মাস ধরে সেখানে বহাল রয়েছেন।অবৈধভাবে গাড়ি চেকিং এর নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এর আগে তিনি নারায়ণহাট রেঞ্জ হতে ভুয়া জোত পারমিট, বাগানের টাকা আত্মসাৎ করে ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে।

সোহেল রানার অগ্রীম অর্ডার সম্পন্ন করতে লেনদেনের অঙ্ক প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের ধুমঘাট ফরেস্ট চেক স্টেশনের ডেপুটি রেঞ্জার ইলিছুরগংদের বিরুদ্ধে সূত্র আরো জানায়। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে বছরের পর বছর নিয়ম বহির্ভূতভাবে  চট্টগ্রামের বন প্রশাসন অবৈধ টাকার কাছে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

ধূমঘাট স্টেশনে কাঠের গাড়ি চেকিংয়ের নামে গাড়ি থেকে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন, লামা, আলীকদম, কক্সবাজার থেকে আসা বৈধ এবং অবৈধ কাঠের গাড়ী থেকে তাদের সিন্ডিকেটটি উৎকোচ নিয়ে থাকেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্টেশনে তিনি অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেন।

 তার সহযোগিতায় রয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি শক্তিশালী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহানসাহ নওশাদ নামে এক ডেপুটি রেঞ্জার। যিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলকে হাতের মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছেন। ইলিছুর এবং নাওশাদ একই সাথে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন চট্টগ্রাম উত্তর দক্ষিণ বান্দরবান ও কক্সবাজারের কয়েকটি চেক স্টেশনসহ অনেকগুলো রেঞ্জ অফিস।

নওশাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা কেও কিছু বললে তাদেরকে ইলিগেশন এবং মিথ্যা সংবাদের ভয় দেখান।

নাওশাদ ও ইলিছুরগংরা নিজেকে অপকর্মের সম্রাট মনে করেন। তিতুমীর ইতিপূর্বে নারায়নহাটে কাঠ পাচারকারী বনদস‍্যু ভুমিখেকোদের সাথে আতাত করে বহু বনের জায়গা বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

ধুমঘাট চেক স্টেশনে সহযোগী অফিসার ডেপুটি রেঞ্জার আঙ্গুর ও ফরেস্ট গার্ড নাসির চৌধুরীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। নাসির ফরেস্ট গার্ড হেড কোয়াটার থেকে সরাসরি স্টেশনে বদলি হয়েছে যা বন বিভাগের বদলি নীতিমালা বহির্ভূত বা ক্ষমতার অপব্যবহারই বলা চলে ইতিপূর্বে তিনি বিপুল কৃষ্ণের কাছে সুযোগ সুবিধা নিলেও এখন ভোল পাল্টে জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্য বিরোধী হয়ে গেছে।

এই স্টেশনে অবৈধভাবে  গোল কাঠ, রদ্দা কাঠ,জ্বালানি কাঠ ,ফার্নিচার গাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করেন। স্থানীয় ব‍্যাবসায়ী নুরু সওদাগর বলেন ধুমঘাট স্টেশনের এস ও ইলিছুর রহমান তিতুমীর একটা আতন্কের নাম। স্টেশনে তার সহযোগিতায় নাসির এবং আঙ্গুর রয়েছেন।

খাগড়াছড়ি কাঠ ব‍্যবসায়ি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন ধুমঘাট স্টেশনে জোর জুলুম করে টাকা পয়সা আদায় করা হয়। চাঁদা না দিলে অবৈধভাবে বন মামলা দিয়ে দেয় বৈধ কাঠের গাড়িতে।

এদিকে এসব অভিযোগে বন বিভাগে কর্মরত সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে,অনেকেই বছরের পর বছর উপকূল সহ খারাপ পদায়নে থাকার পরেও ভাল পোষ্টিং পায় না অথচ সংঘবদ্ধ দল দিনের পর দিন লোভনীয় পোষ্টিং লুটে নিচ্ছেন এ ধরনের সিন্ডিকেটের কারণে পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বন রক্ষা কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর