• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
বনায়নের আড়ালে লুটপাটের সাম্রাজ্য, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগে বন কর্মকর্তা যাত্রীর ছদ্মবেশে পুলিশের কোটি টাকার ইয়াবা পাচার, রুখে দিলো বিজিবি উখিয়ায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই: পলাতক বাবুল, জড়িত আসিফ-ইমন, এলাকায় চাঞ্চল্য নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে উখিয়ায় বিএনপি কর্মীকে হত্যার উদ্যোশ্যে হামলা – দাবি পরিবারের লাইন নিয়ে চলছে নির্বিচারে পাহাড় কেটে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে খুরুশকুল বিট কর্মকর্তা মোশারাফ কক্সবাজারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী সাংবাদিকতা: জসিম উদ্দিনকে ঘিরে প্রশংসা, সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য পাচার ও মাসিক মাসোহারার বরপুত্র ডেপুটি রেঞ্জার সাদেক রোহিঙ্গা থেকে ‘নাগরিক’! দ্বৈত এনআইডি, হাফেজ হাশেমের গোপন সাম্রাজ্য নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নামছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস টাকার বিনিময়ে মুক্তি, না দিলে চালান: ওসি আজাদের বিরুদ্ধে মিলল সত্যতা

বনায়নের আড়ালে লুটপাটের সাম্রাজ্য, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগে বন কর্মকর্তা

প্রতিবেদকের নাম : / ১৩৩ বার
সময় : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বাঁকখালী রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার মোঃ সরওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বনায়নের আড়ালে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, “সুফল প্রকল্প” বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখিয়ে বাস্তবে তা না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা সরকারি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তার বিরুদ্ধে পৃথক একাধিক গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও তা কার্যকর তদন্ত ছাড়াই ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বন বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাঘখালী রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বিপুল পরিমাণ বনায়নের বরাদ্দ গ্রহণ করে তার বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে এসব অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফাইলে উল্লেখিত অনেক শ্রমিক ও সরবরাহকারীর অস্তিত্ব মাঠপর্যায়ে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জ ও চেকপোস্টে পদায়নের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। দীর্ঘ সময় একই স্থানে বহাল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা, কাঠ ও মাটি পাচারসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। তার দায়িত্বকালেই বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্রিকফিল্ড স্থাপন এবং বনজ সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাকরি জীবনে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রাম ও মিরসরাই এলাকায় একাধিক ভবন, পরিবহন ব্যবসা, জমি এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগে বদলি হলেও কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ এবং স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে বনভূমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট একটি বিট এলাকায় বন উজাড় করে কৃষিকাজ চালানোর ঘটনাও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, বননির্ভর জনগোষ্ঠী ও বন বিভাগের কিছু কর্মচারী এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। জানা গেছে, বিষয়গুলো ইতোমধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্তাধীন রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফরেস্টার মোঃ সরওয়ার জাহানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বন বিভাগের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর