কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন চাচার হাতে ভাতিজাদের নির্মম হামলায় বৃদ্ধ শের আলী (৭০) নিহত হওয়ার পর এবার তার সন্তানদের হত্যা করতে কোটি টাকার মিশনে নামার অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ায় নিহতের পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ।
জানা গেছে, গেল ২৬শে নভেম্বর বিকেলে ধলঘাটা ইউনিয়নের সাপমারা ডেইল এলাকায় আসরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হন শের আলী। হামলার পর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সেখানে ৬ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রবিউল হোসাইন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৯ জনকে আসামি করে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৩৭৯/২৫।
অভিযোগ রয়েছে, মামলার পর থেকেই নিহত শের আলীর সন্তান ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যাকারীদের একজনের ভাই আব্দুর রহমান বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে বলেন, রবিউল ও জাকিরকে হত্যা করতে ২ কোটি টাকা খরচ হলেও করা হবে বলে কমেন্টে লিখেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
শের আলী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দলিলুর রহমান ও আজিজুর রহমান বর্তমানে কারাগারে থাকলেও বাকি আসামি সোলতান, নুর মোহাম্মদ, রুবেল, হোসাইনসহ তিন বোন-খোলামেলাভাবে নিহতের পরিবারকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
নিহতের ছেলে জাকির হোসাইন বলেন,সামান্য জমির বিরোধে আমার বৃদ্ধ বাবাকে চাচাতো ভাইয়েরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু তাতেও তাদের ক্ষান্তি হয়নি। এখন আমাকে ও আমার ভাইকে কোটি টাকা খরচ করেও হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আমরা পুরো পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
স্থানীয় যুবক শাকিল বলেন,এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নৃশংস। যারা এমন কাজ করতে পারে, তারা সমাজের জন্য ভয়ংকর। এখন নতুন করে আবার তারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম বলেন, ওরা খুব খারাপ প্রকৃতির লোক। না হলে আপন চাচাকে এভাবে হত্যা করত না। আমরা শের আলী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তার পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, হাতুড়ি, লাঠিসোটা নিয়ে শের আলীর ওপর হামলা চালায়। কিরিচ ও ছোরার আঘাতে তার মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে পুরো পরিবারকে হত্যা করার হুমকিও দেয়।
নিহত শের আলীর পরিবার দ্রুত জীবননাশের হুমকি প্রদানকারীদের গ্রেপ্তার, পরিবারকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রদান এবং মামলার আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রকাশ্যে হত্যার ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এলাকায় আরও বড় ধরনের রক্তপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, আসামীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তথ্য দিয়ে বাদিপক্ষ সহযোগীতা করলে আরো একটু সহজ হয়।