কক্সবাজারের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অভিযানে দুইজন আসামিসহ অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী চক্র মায়ানমারের অপরাধী চক্রের সাথে যোগসাজশে ইয়াবাসহ বিভিন্ন চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মংজয়পাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ গাছবুনিয়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অধিনায়ক, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর নির্দেশনায় মংজয়পাড়া বিওপি কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক টহলদল দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সীমান্ত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়। এ সময় ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র চোরাকারবারী দল বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে টহলদলের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরে বিজিবি সদস্যরা প্রায় ৫০০ গজ ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন—উমং (২৫), পিতা সুইজানু, গ্রাম মংজয়পাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান এবং মায়ানমারের নাগরিক পানুয়া (১৮), পিতা মংচাকনু, গ্রাম উইলাতং, জেলা মংডু, মায়ানমার। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি রামদা ও ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অপর ৫-৬ জন চোরাকারবারী গহীন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান নিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে। বিজিবি জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মাদক ব্যবসা, বিশেষ করে ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক আসামিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার প্রতিরোধে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কঠোর অবস্থানে থাকবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।