রোজা রেখে চোখে ড্রপ বা তরল ওষুধ ব্যবহার করা জায়েজ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, চোখ থেকে সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছানোর কোনো পথ নেই। তবে চোখ থেকে নাক হয়ে গলায় সামান্য কিছু পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকতে পারে।
ফকিহগণ চোখে সুরমা ব্যবহারের বিধানের সঙ্গে চোখের ড্রপের বিষয়টিকে তুলনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
اِكْتَحَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ صَائِمٌ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ ১৬৮৭)
যদি ড্রপ দেওয়ার পর মুখে স্পষ্ট স্বাদ অনুভূত হয় বা সুরমার রং মুখে চলে আসে-তাহলে রোজা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তবে সাধারণত এমনটি ঘটে না। তাই চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি (জিদ্দাহ)-এর সিদ্ধান্তও অনুরূপ। (মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা: ১০)
◼ রোজা রেখে নাকে ড্রপ দেওয়া
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, নাকে কোনো তরল ওষুধ ব্যবহার করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণেই প্রয়োজনে নাক দিয়ে রাইস টিউবের মাধ্যমে রোগীকে খাবার দেওয়া হয়।
চার মাযহাবের ইমামগণ একমত যে, নাকে কোনো কিছু প্রবেশ করানো হলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রোজা অবস্থায় নাকে ড্রপ বা তেল ব্যবহার করা যাবে না।
এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত লাকিত ইবনে সাবুরাহ (রা.)-কে বলেন-
وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا
‘অজুতে নাকে ভালোভাবে পানি দাও; তবে যদি রোজাদার হও, তাহলে (অতিরিক্তভাবে) নাকে পানি টেনে নিও না।’ (তিরমিজি ৭৭৮)
এ হাদিস থেকেই বোঝা যায়, নাক দিয়ে কিছু প্রবেশ করলে তা রোজার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।